সীমান্তে মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের আহ্বান

৩০ জুন, ২০২১ ১৬:৪৭  
টেকনাফ ও উখিয়ায় মিয়ানমারের এমপিডি টেলিকম নেটওয়ার্ক উচ্চ হারে ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করছে অভিযোগ করে শিগগিরি দুই দেশের টেলিকম নিয়ন্ত্রক কমিশনের আইন অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় বিশেষ করে মায়ানমার ও ভারতের সীমান্ত এলাকায় তাদের দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সীমান্তে ব্যবহার হওয়া দেশে অপরাধ ও নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারি, মাদক বেচাকেনা, অর্থপাচার, মানব পাচার এমনকি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অন্যতম মাধ্যম মোবাইল নেটওয়ার্ক। বিশেষ করে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা উখিয়া ও টেকনাফে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিলে মোবাইল নেটওয়ার্কের অপব্যবহারের বিষয়টি সকলের দৃষ্টি গোচর হয়েছে। এমনকি এই মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে তারা জনসভা করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। তিনি আরো বলেন, আমাদের ও বিভিন্ন মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের লক্ষ্য করা যায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ৮-৯ লাক্ষই বাংলাদেশি সিম ব্যবহার করে। তার মধ্যে আরও ৩-৪ লাখ সিম মায়ানমারের মোবাইল কোম্পানি এমটিপি'র। আমরা মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের দাবি জানালে সরকার ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে মায়ানমারে থ্রিজি ও ফোরজি সেবা বন্ধ করে দেয়। ঠিক এরপর থেকেই রোহিঙ্গারা মায়ানমারের মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক বেশি করে ব্যবহার করতে শুরু করে। গ্রাহকদের দ্রুত সেবা ও ব্যবসার স্বার্থে মায়ানমারের মোবাইল অপারেটর নাফ নদীর পাড়ে মোবাইল টাওয়ার বসায়। বিষয়টি আমরা আলোচনায় আনলে এমনকি গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা বিবৃতি দিলে দেশের জাতীয় অনলাইন ও জাতীয় পত্র পত্রিকা সমূহ এমনকি বিবিসি তো সেই বক্তব্য প্রচারিত হয়। বর্তমান সময়ে টেকনাফের স্থানীয় নাগরিকরা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে বিড়ম্বনায় পড়লেও রোহিঙ্গা নাগরিকরা ঠিকেই থ্রিজি ও ৪জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। একইভাবে ভারত সীমান্ত ঘেঁষে রিলায়েন্স জিও মোবাইল নেটওয়ার্ক এ টাওয়ার থাকায় সীমান্ত এলাকার নাগরিকরা সহজেই অন্য দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থ পাচার অপরাধমূলক এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা তথ্য পাচার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।